মিনু প্রকৃতির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে।
'মহৎ হয়ে সুবিধাই হয়েছে যোগেন বসাকের'- উক্তিটি দ্বারা সুবিধাভোগী যোগেন বসাকের মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে।
যোগেন বসাক মিনুর পিসেমশাই। মিনু মাকে হারানোর পর এ বাড়িতে চলে আসে। লোকে মনে করে যোগেন বসাক মিনুকে আশ্রয় দিয়ে মহৎ কাজ করেছে। কিন্তু সুবিধাভোগী যোগেন বসাক মহৎ উদ্দেশ্যে মিনুকে আশ্রয় দেয়নি। সারাদিন খাটানোর জন্যই মূলত আশ্রয় দিয়েছে। আলোচ্য উক্তিটি এটাই প্রকাশ করে।
কথা বলতে না পারার দিক থেকে উদ্দীপকের লখা এবং 'মিনু' গল্পের মিনুর সাদৃশ্য রয়েছে।
এই পৃথিবীতে বিচিত্র রকমের মানুষ বসবাস করে। কেউ সুস্থ, কেউবা পুরো সুস্থ নয়। যারা কথা বলতে পারে না তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।
উদ্দীপকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোর লখার কথা বলা হয়েছে। প্রভাতফেরির মিছিলে সেও মানুষের সঙ্গে পা মিলিয়ে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায়। কিন্তু সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে সে গান গাইতে পারে না। লখা কথা বলবে কী করে, সে যে জন্ম থেকেই বোবা। 'মিনু' গল্পের ছোট্ট মেয়ে মিনুও বাকপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা হারা মেয়ে মিনু কথা বলতে পারে না। দূরসম্পর্কের এক পিসিমার বাড়িতে অনেক কষ্ট করে তাকে থাকতে হয়। কথা না বলতে পারার কষ্ট মিনু প্রকৃতির সঙ্গে ভাগ করে নেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের লখা এবং আলোচ্য গল্পের মিনু উভয়ই বাকপ্রতিবন্ধী। আর এ দিক থেকেই উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
"উদ্দীপকের লখা 'মিনু' গল্পের মিনুর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও গল্পের সামগ্রিক দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের দুঃখ-কষ্টের সীমা-পরিসীমা থাকে না। প্রত্যেক মানুষের উচিত তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।
'মিনু' গল্পের মিনু বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা না থাকায় তার জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ কষ্ট। দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে কষ্ট করে থাকলেও মিনু নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে না। কথা না বলতে পারার কষ্ট সে প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি পাতিয়ে দূর করতে চেয়েছে। উদ্দীপকেও বাকপ্রতিবন্ধী কিশোর লখার কথা বলা হয়েছে। লখা কথা বলতে না পারলেও সবার সঙ্গে পা মিলিয়ে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায়।
উদ্দীপকে 'মিনু' গল্পের সঙ্গে মিল রেখে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোর লখার অস্ফুট আর্তনাদের কথা বলা হয়েছে। জন্ম থেকে বোবা লখার মুখে কথা ফোটে না। 'মিনু' গল্পের মিনুও কথা বলতে পারে না। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য গল্পে বাবা-মা হারা মিনুর কষ্ট, প্রকৃতির সঙ্গে তার একাত্মতা এবং পিতার জন্য অপেক্ষায় থাকা তার মনঃকষ্টের বর্ণনা রয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের লখা 'মিনু' গল্পের মিনুর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও গল্পের সামগ্রিক দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত রয়েছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allমিনু তার এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকত।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের বাইরে মানুষের তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
ছোট মেয়ে মিনু বোবা ও বধির। চিৎকার করে বললে সে কথা শুনতে পায়। ঠোঁট নাড়া আর মুখের ভাব দেখেই সব বুঝতে পারে সে। মিনু তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি দিয়ে এমন সব জিনিস বুঝতে পারে, এমন সব জিনিস সৃষ্টি করে যা সাধারণের দ্বারা কষ্টসাধ্য। মিনুর এ অনুভূতিশক্তিকেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় হিসেবে বোঝানো হয়েছে।
অবস্থানগত দিক থেকে উদ্দীপকের বন্যা ও মিনুর মধ্যে 'বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
পৃথিবীতে ভালো-মন্দ দু'রকম মানুষেরই সংমিশ্রণ রয়েছে। ভালো মনের মানুষ পরকেও আপন করে নেয়। আবার মন্দ মনের মানুষ আপনকেও সহজেই পর করে দেয়।
উদ্দীপকের বন্যা মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে। সালমা তার আত্মীয় নয়, কিন্তু বন্যাকে স্কুলে পড়াশুনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া বন্যার গুণে তিনি তাকে পরিবারের একজন সদস্য মনে করেন। অন্যদিকে 'মিনু' গল্পের মিনু তার দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকলেও তাকে নানা রকম কাজ করতে হয়। সেখানে বন্যার মতো মিনু পড়াশুনার সুযোগ পায়নি। মিনু ও বন্যা উভয়কেই অন্যের সংসারে কাজ করতে হয়। কিন্তু অবস্থানগত কারণে বন্যা বেশি সুযোগ-সুবিধা পায় আর মিনু বঞ্চনার শিকার হয়- উভয়ের মাঝে এই বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা মানবজীবনের অপরিহার্য সম্পদ। শিক্ষাগ্রহণ মানুষের জন্মগত অধিকার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে এবং সেটাকে সে তার যাপিত জীবনে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে।
উদ্দীপকের বন্যা এবং 'মিনু' গল্পের মিনুর শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রের পার্থক্য রয়েছে। বন্যা সারা সকাল মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে দিবা শাখার স্কুলে পড়ালেখা করে। সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পেলেও বাইরের জগতের শিক্ষা পায়নি। অপরপক্ষে মিনু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও প্রকৃতির কাছ থেকে সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে।
'মিনু' বাকপ্রতিবন্ধী হলেও তার তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি রয়েছে। সেও অন্যের বাড়িতে কাজ করে। প্রকৃতি তার শিক্ষা গ্রহণের পাঠশালা। উদ্দীপকের বন্যার মতো মিনুর বন্ধুত্ব না হলেও প্রকৃতির মাঝে সে শিক্ষা ও সাহচর্য খুঁজে নেয়। তাই বলা যায় বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।
বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
শুকতারা মিনুর মতোই খুব ভোরে জেগে ওঠে বলে সে শুকতারাকে সই বলেছে।
পিতৃ-মাতৃহীন মিনু দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকে। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সে একাই করে। তাই প্রতিদিন ভোরে মিনুকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে শুকতারার সাথে। সে মনে করে শুকতারাও হয়তো তার মতোই কয়লা ভাঙার কাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। মিনু এ কারণেই শুকতারাকে সই বলেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
